মোট দেখেছে : 1,235
প্রসারিত করো ছোট করা পরবর্তীতে পড়ুন ছাপা

খাটের নিচে পাতিলের ভেতর শিশুর লাশ, ঘাতক বাবা পলাতক


মুহাম্মদ আতিকুর রহমান (আতিক)

গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি:


গাজীপুরের শ্রীপুরে পোশাক শ্রমিক নাছরিন আক্তার কারখানা থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি রবিবার দুপুরে বাসায় ফিরে সাত বছরের মেয়ে মনিরাকে নিজ হাতে ভাত খাইয়ে আবার কাজে যান। সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে আদরের মেয়েকে পড়ানোর কথা

ছিল তার। কিন্তু কারখানা ছুটির পর সন্ধ্যার আগে বাসায় ফিরে মেয়েকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না তিনি। স্বামী রফিকুল ইসলামেরও খোঁজ নেই। এরপর থানা পুলিশের দ্বারস্থ হন নাছরিন। পরে পুলিশ এসেও রফিকুল ও মনিরাকে খুঁজতে থাকে।

একপর্যায়ে তাদের ঘরের খাটের নিচে সিলভারের (অ্যালুমিনিয়ম) একটি পাতিলের ভেতর পাওয়া পায় মনিরার নিথর দেহ। 


গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পূর্বখন্ড এলাকার ওই ঘর থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি রবিবার রাত ১০টার দিকে মনিরার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। 


পারিবারিক বিরোধের জেরে বাবা রফিকুল মেয়েকে হত্যার পর লাশ পাতিলে ভরে রেখেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।


জানা গেছে, জেলার কাপাসিয়ার চাঁপাত গ্রামের মাঈন উদ্দিনের ছেলে রফিকুল স্ত্রী নাছরিন ও মেয়ে মনিরাকে নিয়ে ওই বাসায় থাকত। দু'জন একই পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। এরই মধ্যে নাছরিন পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ে বলে

সন্দেহ করা শুরু করে রফিকুল । এ নিয়ে শনিবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া ও মারামারি হয়। গত রবিবার সকালে রান্না শেষ করে মেয়েকে তার স্কুলে দিয়ে কাজে চলে যান নাছরিন। কিন্তু রবিকুল বাসায়ই থেকে যায়।

দুপুরে বিরতির সময় বাসায় ফিরে নাছরিন স্বামী ও মেয়েকে নিয়ে খাবার খেয়ে আবার কাজে যান।

শ্রীপুর থানার ওসি জাবেদুল ইসলাম বলেন, স্ত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে রফিকুল মেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যার পর পাতিলের ভেতর লুকিয়ে রেখে পালিয়ে যায় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।


মনিরাকে চার-পাঁচ দিন আগে স্থানীয় হাজি মোহাম্মদ আলী কিন্ডারগার্টেনে প্লে শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়েছিল।


ওসি জানান, মনিরার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। 


রফিকুলকে গ্রেফতারের জন্য ঘটনার পর থেকেই অভিযান শুরু হয়েছে। মেয়েকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন নাছরিন। একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।


আরো দেখুন

আরও সংবাদ